প্যাকেজিং এ ইপিএস প্রযুক্তির ব্যবহার

ইপিএস প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর আঘাত সহ্য করবার ক্ষমতা। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে খুব ভালভাবে ও নিরাপদে বিভিন্ন দামি ও ভঙ্গুর পণ্য, যেমনঃ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কাঁচের জিনিস, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, ফার্মেসি সম্পর্কিত পণ্য ইত্যাদি মালামাল ইপিএস প্রযুক্তি ব্যাবহার করে সংরক্ষণ করা যায়। ইপিএস তাপ অপরিবাহী এবং আর্দ্রতা থেকে মুক্ত বলে এর ভেতর সামুদ্রিক খাদ্যদ্রব্যের মত নাজুক পণ্যও সংরক্ষণ করা যায় একেবারে অক্ষতরূপে। ইপিএসএর এই সব গুণের কারণে নানা ধরণের পণ্য যেগুলো নাজুক কিংবা মেয়াদ স্বল্প সেগুলো কোন ধরণের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সংরক্ষণ করা যায় এবং নিরাপদে বাজারে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়। 

গার্মেন্টেস এ ওয়াশিংএর কাজে ইপিএসএর ব্যবহার

গার্মেন্ট ওয়াশিং একটি নতুন প্রযুক্তি যা আমাদের দেশে এসেছে খুব বেশিদিন হয় নি। সধারণত ওয়াশিং মানে কোন কিছু ধোঁয়া। কিন্তু গার্মেন্ট ওয়াশিং বলতে বোঝায় অন্য কিছু। এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে কোন গার্মেন্ট পণ্য দেখতে কতটা সুন্দর হবে, পড়ে কতটা আরাম পাওয়া যাবে ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। সাধারণত সলিড রঙ করা গার্মেন্ট পণ্য বা সলিড প্রিন্ট করা ফেব্রিকে গার্মেন্ট ওয়াশিং প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। তবে সবচেয়ে যেটি গুরুত্বপূর্ণ যেটি হল এই প্রযুক্তির একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে ইপিএসএর ব্যবহার। 


ইপিএস (কর্ক শীট)

ভবন নির্মাণে ইপিএস প্রযুক্তির ব্যবহার

নির্মাণ শিল্পে ইপিএসএর ব্যবহার নিত্যদিনের। ইপিএস ভবনের ভেতর লুকায়িত থেকে এক প্রকার পাহারদারের মত কাজ করে ভবনকে ক্ষতিকর পোকামাকড় কিংবা ছাড়পোকার মত অসহ্য আপদ থেকে রক্ষা করতে। ইপিএসএর যে শক্তিশালী, মজবুত ও হালকা  গঠন তা একে ভবন নির্মাণের জন্য একটি অপরিহার্য্য উপাদানে পরিণত করেছে। 

ওয়ালের প্যানেল সিস্টেম, ছাদ কিংবা মেঝে- সবখানেই ইপিএসএর সফল ব্যবহার সম্ভব। বাসা-বাড়ি কিংবা কোন বাণিজ্যিক নির্মাণে এই প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে অহরহ। এছাড়াও ওজনে হালকা হয়ার কারণে বিভিন্ন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পে ইপিএস ব্লকের ব্যবহার দেখা যায়। 

তবে নির্মাণ কাজে ইপিএসএর সবচাইতে বড় যে ব্যবহার সেটি হচ্ছে মেঝে, ছাদ কিংবা দেয়ালের ইন্সুলেটেড বা তাপ অপরিবাহী প্যানেল সিস্টেম হিসেবে। 

হিমাগারে ইপিএসএর ব্যবহার

ইপিএসএর যে তাপ অপরিবাহী বোর্ড সেটি হিমাগারের দেয়াল কিংবা ছাদ নির্মাণের জন্য একেবারে আদর্শ উপকরণ। বিশেষ করে এমন হিমাগার যেখানে খাদ্য কিংবা এধরণের নানা পণ্য সংরক্ষণ করা হয় যেগুলো তাপমাত্রার আধিক্যের কারণের নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তার জন্য৮ এই প্রযুক্তি অপরিহার্য্য। তাপমাত্রা -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখবার প্রয়োজনে একটি হিমাগারে ইপিএস প্রযুক্তির ব্যবহার করতেই হবে। ইপিএসএর যেসকল বৈশিষ্ট্যের কারণে হিমাগার নির্মাণে একে এত গুরুত্ব দেয়া হয় সেগুলো হচ্ছেঃ 

১. তাপ অপরিবাহীতা

২. সহজে নষ্ট না হওয়া

৩. রাসায়নিকের প্রতি অত্যধিক সহনশীল

৪. মজবুত 

এছাড়াও এটি হিমাগারে পানির অপচয় রোধে এবং ভোল্টেজ কম থাকলেও তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে সংরক্ষিত পণ্যের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বেড়ে যায় বহুগুণে।